একটি ফার্মের মূল লক্ষ্য হলো সর্বোচ্চ সম্ভাব্য লাভ অর্জন করা। এর অর্থ হলো উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে এবং বাজারে উচ্চ মূল্যে পণ্য বিক্রি করে সর্বাধিক আয় নিশ্চিত করা। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য, ফার্মকে অবশ্যই তার উৎপাদন প্রক্রিয়া সর্বোত্তমভাবে ব্যবহার করতে হবে এবং বাজারের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হতে হবে।
আমরা আজ ফার্মের উৎপাদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে আলোচনা করবো।
একটি ফার্ম বিভিন্ন সম্পদ ব্যবহার করে আউটপুট তৈরি করে। এই সম্পদগুলোকে আমরা ইনপুট হিসেবে চিহ্নিত করতে পারি। ধরা যাক, আমাদের দুটি ইনপুট আছে, যাদেরকে আমরা $x_1$ এবং $x_2$ দিয়ে প্রতিনিধিত্ব করবো।
এই ইনপুটগুলো ব্যবহার করে ফার্ম কতটা আউটপুট তৈরি করতে পারবে তা নির্ধারণ করে আমাদের প্রোডাকশন ফাংশন। প্রোডাকশন ফাংশনকে আমরা $y = f(x_1, x_2)$ হিসেবে লিখতে পারি। এর মানে হলো, $y$ হলো উৎপাদিত আউটপুটের পরিমাণ, যা $x_1$ এবং $x_2$ ইনপুটের পরিমাণের উপর নির্ভর করে।
ফার্মকে এই ইনপুটগুলো কিনতে হয়। ইনপুট কেনার জন্য ফার্মকে যে খরচ করতে হয় তাকে আমরা খরচ বলি। ধরা যাক, $x_1$ ইনপুটের প্রতি ইউনিটের মূল্য $w_1$ এবং $x_2$ ইনপুটের প্রতি ইউনিটের মূল্য $w_2$।
সুতরাং, ফার্মের মোট খরচ হবে:
মোট খরচ = $w_1 * x_1 + w_2 * x_2$
ফার্মের মুনাফা সর্বাধিকীকরণ সমস্যা সমাধানে স্বল্পমেয়াদ এবং দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।
স্বল্পমেয়াদে:
স্থির কারণ: উৎপাদনের কিছু কারণ স্থির থাকে। উদাহরণস্বরূপ, একটি ফার্মের ক্ষেত্রে, জমি, যন্ত্রপাতি, এবং কারখানার আকার স্থির থাকতে পারে।পরিবর্তনশীল কারণ: শ্রমের মতো অন্যান্য কারণ পরিবর্তনশীল হতে পারে।সিদ্ধান্ত: স্বল্পমেয়াদে, ফার্ম কত শ্রমিক নিয়োগ করবে তা সিদ্ধান্ত নিতে পারে।উদ্দেশ্য: স্বল্পমেয়াদে, ফার্মের লক্ষ্য হলো স্থির ইনপুট ব্যবহার করে সর্বাধিক সম্ভাব্য মুনাফা অর্জন করা।দীর্ঘমেয়াদে:
সকল কারণ পরিবর্তনশীল: জমি, যন্ত্রপাতি, কারখানার আকার, এবং শ্রম সহ সকল ইনপুট পরিবর্তন করা যায়।সিদ্ধান্ত: দীর্ঘমেয়াদে, ফার্ম কত জমি ভাড়া করবে, কত যন্ত্রপাতি কিনবে, কত বড় কারখানা নির্মাণ করবে এবং কত শ্রমিক নিয়োগ করবে তা সিদ্ধান্ত নিতে পারে।উদ্দেশ্য: দীর্ঘমেয়াদে, ফার্মের লক্ষ্য হলো সকল ইনপুটের সর্বোত্তম সমন্বয় খুঁজে বের করে সর্বাধিক সম্ভাব্য মুনাফা অর্জন করা।উদাহরণ: